www.bdsongbad.com | Bangla Online Newspaper in BD কাপাসিয়ার ধাঁধার চর হতে পারে পর্যটক কেন্দ্র | www.bdsongbad.com | Bangla Online Newspaper in BD
Breaking News

কাপাসিয়ার ধাঁধার চর হতে পারে পর্যটক কেন্দ্র

কাপাসিয়ার ধাঁধার চর হতে পারে পর্যটক কেন্দ্র

কাপাসিয়া (গাজীপুর) প্রতিনিধিঃ শীতলক্ষ্যা ও ব্রহ্মপুত্র নদের মোহনায় বিন্দু বিন্দু বালু জমতে জমতে তৈরি হয়েছে মনোলোভা এক ভূখণ্ড। যার নাম ‘ধাঁধার চর’। সুজলা-সুফলা শস্য-শ্যামলা সবুজে ঘেরা ধাঁধার চর দৈর্ঘ্যে প্রায় সাড়ে ৩ কিলোমিটার। বর্ষাকালে নদীর বিশাল ঢেউ দেখলে মনে হয় এ যেন আরেক কক্সবাজারের সমুদ্র সৈকত। বর্ষাকালে শুধু এই ঢেউ দেখতে বিভিন্ন এলাকা থেকে ছুটে আসেন পর্যটকরা। দূর থেকে দেখলে চরটিকে কারও কারও মনে হতে পারে এ যেন ডুবে যাওয়া টাইটানিক জেগে উঠছে। এই চরে রয়েছে বড় বড় পেয়ারার বাগান, কলাবাগান, বরই বাগান, লেবু বাগান আমগাছ, কাঁঠাল গাছ, ও বিভিন্ন জাতের ফসলি ক্ষেত। সবজির মধ্যে আলু, ফুলকপি, বাধাবপি, টমেটো, হচ্ছে অন্যতম। ধানও হয় প্রচুর। এ এলাকার কৃষকদের আয়ের প্রধান উৎস হচ্ছে ধাঁধার চরে চাষ করা সবজি, ফল-মূল ও ধান থেকে। ধাঁধার চরে বাতাসে দোল খাওয়া কাশফুলগুলো যেন হাতছানি দিয়ে ডাকে। পাখির কিচিরমিচির শুনে ইচ্ছা হবে পাখি হয়ে গান গেয়ে গেয়ে উড়ে যাই চরের এপ্রান্ত থেকে ওপ্রান্তে। আড়াইশ বছর আগে গাজীপুর ও নরসিংদী জেলার সীমানা বেষ্টিত শীতলক্ষ্যা ও ব্রহ্মপুত্র নদের তারাগঞ্জ, রাণীগঞ্জ, লাখপুর, চরসিন্দুর এলাকায় নদীর মাঝখানে ২৫০ একর আয়তনের এ চরকে অনেকে বলে ‘মাইঝ্যার চর’ বা ‘মাঝের চর’। কারণ চারটি চারটি গ্রামের মাঝখানে এর অবস্থান। চরের উত্তর, দক্ষিণ, পূর্ব ও পশ্চিম চারদিকেই শীতলক্ষ্যা নদী, উত্তর- পূর্ব কোনায় ব্রহ্মপুত্র নদ। চরের পূর্ব পাশে শিবপুর-মনোহরদী ও পশ্চিম পাশে কাপাসিয়া-কালিগঞ্জ উপজেলা। দুই পাশে দুই জেলা গাজীপুর ও নরসিংদী। বর্ষা মৌসুমে দুটি নদীই পানিতে থৈ থৈ করে। শীতকালে এটি হয়ে ওঠে আরও মনোলোভা।

এই চরের মাটি খুবই উর্বর। রোপণ করলে হয় না, এমন কোনো ফল-ফসল নেই। এক সময় চরে প্রচুর আখ হতো। এখন সবচেয়ে বেশি আলু চাষ হয়। মাটি অতি ফলনশীল। সারবিহীন ফসল সুস্বাদু। ১৯৬০, ১৯৮৮, ১৯৯৮ সালের বন্যায় এ চরটি তলিয়ে গিয়েছিল। ১৯৬০ সালের বন্যার পর চরে কোমর পর্যন্ত পানি জমে যায়। ফলে মাটির উর্বরাশক্তি আরও বাড়তে থাকে। ২০০৬ সালের সার্ক সম্মেলনে ধাঁধার চরটিকে গ্রামীণ পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে ঘোষণার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। ক্রিস্টাল ট্যুরস এন্ড ট্রাভেলস এর চীফ এক্সিকিউটিভ ও মেরিনো রয়েল হোটেলের জেনারেল ম্যানেজার সাদিক আহসান বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রায়োরিটি প্রকল্পের একটি হলো কাপাসিয়ার ধাঁধার চর। এটা জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটিতে (একনেক) পাশ হয়েছে। তিনি আরও বলেন, এটা এক সময় কাপ্তাই, কক্সবাজারের মতো পর্যটন কেন্দ্র হতে পারে। উদীচী কাপাসিয়া উপজেলা সহ সভাপতি জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ঢাকার সন্নিকটে কাপাসিয়ায় ধাঁধার চর। মানুষ একটা মুক্ত প্রকৃতির মাঝে সময় কাটাতে চায়।

কক্সবাজার কিংবা কাপ্তাই বেশ দূরে। সময় স্বল্পতার কারণে অনেকসময় বেড়াবার ইচ্ছে থাকলেও দূরে যেতে চায়না। পরিবার পরিজন দূরে কোথাও মানুষ বেড়াতে যেতে অনিহা প্রকাশ করে। ধাঁধারচর প্রকৃতি ঘেরা একটা নিবির মনোরম স্থান। এখানে পর্যটন কেন্দ্র হলে কাপাসিয়ার অর্থনৈতিক অবস্থার পরিবর্তন আসবে। চর সংলগ্ন ঘিঘাটা গ্রামের ইমরান হাসান বলেন, বর্তমানে চর থেকে অনেকে মাটি নিয়ে যাচ্ছে তাছাড়া ময়লা আবর্জনা ফেলে আশেপাশের পরিবেশ নষ্ট করছে। যথার্থ কোন রক্ষক না থাকায় চর থেকে বড় বড় বিভিন্ন গাছ-পালা কেটে বন উজার করছে স্থানীয় কিছু লোকজন। এমন অবস্থায় এ সম্ভাবনাময় পর্যটক কেন্দ্রে রাষ্ট্রীয় ভাবে নজরদারি করা অতি জরুরি। তা না হলে কাপাসিয়াবাসী হারাবে সম্ভাবনাময় পর্যটক কেন্দ্রটি।
যেভাবে যাবেন চরে : ঢাকা থেকে সড়কপথে মাত্র ৬০ কিলোমিটার দূরে ধাঁধার চর। যেতে লাগে মাত্র ১ ঘণ্টা ৩০ মিনিট। সড়কপথে ঢাকার গুলিস্তান বা মহাখালী থেকে বাসে চড়ে সরাসরি কাপাসিয়া হয়ে রাণীগঞ্জ যেতে হয়। বাস ভাড়া ১০০ টাকা। ওখানে গেলেই দেখা যাবে রানীগঞ্জ বাজার সংগগ্ন শীতলক্ষ্যা ও ব্রহ্মপুত্র দুই নদীর মোহনায় নৌকার মতো ভেসে আছে ঐতিহ্যবাহী দর্শনীয় স্থান এই ধাঁধার চর।

শামীম শিকদার
কাপাসিয়া, গাজীপুর
০১/০৪/২০১৮

Check Also

ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন

কোটি মানুষের ভিড়ে একজন ব্যারিস্টার সুমন

হবিগঞ্জ প্রতিনিধিঃ ভারতের সাবেক প্রয়াত রাষ্ট্রপতি এ পি জে আবদুল কালাম বলেছিলেন যদি একটা দেশকে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *