www.bdsongbad.com | Bangla Online Newspaper in BD সড়ক দুর্ঘটনা রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নিন | www.bdsongbad.com | Bangla Online Newspaper in BD
Breaking News

সড়ক দুর্ঘটনা রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নিন

সড়ক দুর্ঘটনা
প্রতীকী ছবি

নিজস্ব প্রতিবেদক : প্রায় প্রতিদিনই সড়কে ঝরে যাচ্ছে অসংখ্য তাজা প্রাণ। আহত হয়ে পঙ্গুত্ব জীবনযাপন করেছেন বিপুলসংখ্যক মানুষ। তবুও কোনোভাবে কমানো যাচ্ছে না সড়ক দুর্ঘটনার মাত্রা। বরং দিন দিন নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে সড়ক দুর্ঘটনা। এতে সড়কে মৃত্যুর মিছিল বেড়েই চলেছে। তার জন্য যেমন নেই কোন কার্যকর উদ্যোগ তেমন নেই সচেতনতা। পুলিশ সদর দফতরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০০৯ সাল থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত অর্থাৎ এই সময়ে প্রতিবছর গড়ে আড়াই হাজারের বেশি মানুষ সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছে। পরের ৪ বছরে এ গড় কমে প্রায় ২ হাজারে দাঁড়িয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রকৃত দুর্ঘটনার সংখ্যা আরো কয়েকগুণ বেশি। পুলিশের হিসাবে দুর্ঘটনার প্রকৃত তথ্য উঠে আসে না। নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) তথ্যমতে, ২০১৫ সালে সারাদেশে ২ হাজার ৬২৬ টি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে এই দুর্ঘটনায় ৫ হাজার ৩ জন মারা যান, আহত হন ৬ হাজার ১৯৭ জন। আর ২০১৪ সালে সারাদেশে সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছিল ২ হাজার ৭১৩টি এতে নিহতের সংখ্যা ছিল ৬ হাজার ৫৮২ জন। ২০১৫ সালে ঢাকা জেলায় সবচেয়ে বেশি মানুষ দুর্ঘটনায় নিহত হন। এই সংখ্যা ৩৫৯। এর মধ্যে রাজধানীতেই নিহত ২২৭ জন আর সবচেয়ে কম ২৮ জন মারা যান কুষ্টিয়া জেলায়।

বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির হিসাব অনুযায়ি ২০১৫ সালে সারাদেশে ৬ হাজার ৫৮১টি ছোট-বড় সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে। এতে ৮ হাজার ৬৪২ জন নিহত হন; আহত হন ২১ হাজার ৮৫৫ জন। আর ভিন্ন এক পরিসংখ্যান অনুযায়ী দেশে প্রতিবছর সড়ক দুর্ঘটনায় ১২ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়। জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন কেন্দ্রের একটি সূত্রে জানা যায়, সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হয়ে প্রতিবছর গড়ে ১৫ হাজার লোক পঙ্গু হচ্ছে। সড়ক দুর্ঘটনাসহ বিভিন্ন ধরনের দুর্ঘটনায় আহত হয়ে ২০১৫ সালে পঙ্গু হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ৪৭ হাজার ৪৩৭ জন এবং ২০১৪ সালে ৪৬ হাজার ৫৮৪ জন চিকিৎসা নেয়। এদের মধ্যে প্রায় এক তৃতীয়াংশের চিরতরে পঙ্গুত্ব বরণ করতে হয়।

পরিসংখ্যান যাই বলুক আমাদের দেশে যে মানুষের একটি বড় আংশের অকাল মৃত্যুর কারণ যে সড়ক দুর্ঘটনায় এটা অস্বীকার করার উপায় বোধ হয় কারোই নেই। এক সূত্রে জনা যায়, বাংলাদেশে লাইসেন্সকৃত গাড়ীর সংখ্যা ২১ লাখের বেশি এবং অবৈধ গাড়ীর সংখ্যা প্রায় ১০ লক্ষ (নসিমন, করিমন, ভটভটি, অটোবাইক, মাহিন্দ্রা, ট্রলি)। এই হিসাবে প্রতি দশ হাজার গাড়ীতে সড়ক দুর্ঘটনার সংখ্যা হলো ৪৯টি। অথচ প্রতি ১০ হাজারে আমেরিকায় ২টি, জাপানে ২টি, চীনে সোয়া ৩টি ও রাশিয়ায় ৪টি দুর্ঘটনা ঘটে থাকে। অন্যদিকে বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট কর্তৃপক্ষ তথ্যমতে, সারা দেশে লাইসেন্সবিহীন অবৈধ চালকের সংখ্যা প্রায় সাত লাখ। আর ফিটনেসবিহীন বাস, ট্রাক, মিনিবাস, টেম্পো, অটোরিকশাসহ বিভিন্ন ধরনের গাড়ি রয়েছে চার লাখের মতো। পরিবহন সংগঠনগুলোর প্রভাবশালী নেতারা পুলিশ ও প্রশাসনকে ম্যানেজ করে সড়ক-মহাসড়কে নির্বিঘে গাড়ি চালাচ্ছে। এতে সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে।

সড়কে নানান ধরনের অনিয়ম ও অসচেতনতার কারণে প্রতিনিয়তিই বেড়ে চলছে সড়ক র্দুঘটনা। চালক, যাত্রী সহ আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর যর্থাথ সচেতনতার অভাবে পথে পথে বাড়ছে সড়ক র্দুঘটনায় মৃত্যুর মিছিল। যার-যার খেয়াল খুশি মতো সড়কে চলাচলের ফলে যেমন ভাবে বাড়ছে র্দুঘটনা ঠিক তেমন ভাবেই নষ্ট হচ্ছে মূল্যবান সময়।অসচেতনতার কারণে রাজধানী সহ দেশের প্রতিটি অঞ্চলে সৃষ্টি নানান ধরনের বিব্রান্তির। মানুষ পথে পথে শিকার হচ্ছে অহেতুক হয়রানির।জনজীবনে সৃষ্টি হচ্ছে এক ধরনের আতঙ্ক।২০০৯ সালে এআরআই রাজধানীর দুর্ঘটনারোধে ঝুঁকিপূর্ণ অর্ধশতাধিক ব্লু্যাক স্পট চিহ্নিত করে সেগুলোকে মেরামতের সুপারিশসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও কর্তৃপক্ষের কাছে সুপারিশ পাঠায়। এসব ঝুঁকিপূর্ণ পয়েন্টের মধ্যে ছিল ফার্মগেট, সোনারগাঁও, বিজয় সরণি, শাহবাগ, মৎস্যভবন, জিপিও মোড়, মতিঝিল, যাত্রাবাড়ী, শনির আখড়া, সায়দাবাদ ইত্যাদি। কিন্তু একাধিক নগর কর্তৃপক্ষ থাকা সত্ত্বেও এতদিন পরেও এ পর্যন্ত সেই সুপারিশ বাস্তবায়ন হয়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ব্লু্যাক স্পট সুপারিশ বাস্তবায়ন ছাড়াও ফুটপাথ ও রাস্তা দখলমুক্তকরণ, ট্রান্সপোর্ট কমিশন গঠন, যথাযথ আইন প্রয়োগ ও কোম্পানির মাধ্যমে গাড়ি চালানোসহ চালক-যাত্রী-পথচারীদের সচেতন করা গেলে রাজধানীর সড়কে বিশৃঙ্খলা ও দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণে আসবে।

এছাড়া রয়েছে অদক্ষ ও অশিক্ষিত চালক, ফিটনেসবিহীন গাড়ি, চালকদের প্রশিক্ষণের অভাব, যাত্রী ও পথচারীদের অসচেতনতা, দুর্নীতি, চালকের মোবাইল ফোন ব্যবহার, অপরিকল্পিত ও ভঙ্গুর সড়ক, ওভারটেকিং, অতিরিক্ত গতি, ওভারব্রিজের স্বল্পতা, ট্রাফিক আইন অমান্য, ট্রাফিক পুলিশের গাফিলতি, লাইসেন্সবিহীন গাড়ি ও চালক, বেপরোয়া গাড়ি চালানো এবং যথাযথ আইন ও আইনের প্রয়োগের অভাবসহ বিবিধ। অসচেতনতার কারণে উপরের প্রত্যেকটি ঘটনা ঘটে থাকে। অদক্ষ, অযোগ্য, অশিক্ষিত ও প্রশিক্ষণ বিহীন চালকদের মধ্যে অসচেতনতা থাকবে এটি স্বাভাবিক। তাই সরকারের উচিত চালক নিয়োগের ক্ষেত্রে তাদের শিক্ষাগত যোগ্যতা আরও বাড়ানো। কারণ শিক্ষাই চালকদের সচেতন করতে পারে। এছাড়া অনেক চালক আছেন, যারা গাড়ি চালানো অবস্থায় মোবাইল ফোনে কথা বলে থাকেন, যেটা সড়ক দুর্ঘটনার অন্যতম একটি কারণ। সড়ক দুর্ঘটনা রোধে উপরোক্ত কার্যকর পদক্ষেপ গুলো গ্রহন করা যেতে পারে। পদক্ষেপ গ্রহন করার পাশাপাশি প্রশাসন, চালক ও জনসাধারনকে সচেতন হতে হবে।

শামীম শিকদার
সাহিত্যিক ও সাংবাদিক
ভাকোয়াদী, কাপাসিয়া, গাজীপুর
০১৭৯৯৩৮৯০৫০

Check Also

এসএসসি পরিক্ষার ফলাফল ২০১৮মার্কশিট সহ

এসএসসি ও সমমান পরিক্ষার ফলাফল ২০১৮ অনলাইনে মার্কশিট সহ দেখুন

অনলাইন ডেস্কঃ ২০১৮ সালের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমানের পরীক্ষায় পাসের হারের দিক দিয়ে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *