www.bdsongbad.com | Bangla Online Newspaper in BD ৪৭ বছর পরেও ২৮ লাখ বেইমান বাংলাদেশী নিজেকে দাবি করছে পাকিস্তানী | www.bdsongbad.com | Bangla Online Newspaper in BD
Breaking News

৪৭ বছর পরেও ২৮ লাখ বেইমান বাংলাদেশী নিজেকে দাবি করছে পাকিস্তানী

অনলাইন ডেস্কঃ পাকিস্তানকে ভালোবেসেও ৪৭ বছর পরেও ২৮ লাখ বেইমান বাংলাদেশীকে নাগরিকত্ব দেয়নি পাকিস্তান সরকার।  লাখ লাখ বাঙালিদের বলা হচ্ছে ‘অবৈধ’! খুব অল্প সংখ্যক বাঙালিরই জাতীয় পরিচয়পত্র রয়েছে। আর বর্তমান নাগরিকত্ব আইনের গ্যাঁড়াকলে অধিকাংশ বাঙালিরই পাকিস্তানের বৈধ নাগরিকত্ব নেই। এমনকি জাতীয় পরিচয়পত্র পাওয়া অনেকের পরিচয়পত্র ব্লক করে রাখা হয়েছে। যার ফলে পাকিস্তানের বাঙালি জনগোষ্ঠীর নামের আগে একটি “অবৈধ “ট্যাগ বসেছে স্বাভাবিক নিয়মেই। এসব বাঙালিকে জুলফিকার আলী ভুট্টোর সরকার বৈধতা দিলেও সে কাগজপত্র আর পুনরায় বৈধ করা হয়নি। এছাড়া পাকিস্তানের জাতীয় তথ্য রেজিস্ট্রি দপ্তর (এনএডিআরএ) পুরোনো এ কার্ডের বৈধতার নবায়ন করতে রাজি নয় বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে। এনএডিআরএ থেকে বলা হয়, তাদের কার্ড নবায়ন করা হবে না। কারণ তারা বাংলাদেশি, পাকিস্তানি নয়।

পাকিস্তানপ্রেমী বাঙালিদের চলাফেরা এবং সাধারণ কাজ কর্ম করা জন্য ‘ন্যাশনাল আইডেন্টিটি কার্ড’ নামের অস্থায়ী একটি কার্ড দেয় সরকারি দপ্তর। খুব চড়া দামে প্রাপ্ত এ কার্ডও সকলের ভাগ্যে জোটে না। খাইরুদ্দিন নামের এক বাঙালি পাকিস্তানি গণমাধ্যম দ্য ডনের এক প্রতিবেদনে বলেন, ‘আমার জন্ম পাকিস্তানে। এখানেই বসবাস করছি। বাবাও পাকিস্তানে বসবাস করেছে। বাংলাদেশের সাথে আমাদের কোন সম্পর্ক নেই।’

নিজের দেশকে ভুলে পাকিস্তানকে ভালোবেসে মানসম্মত কর্মসংস্থানের অভাবে মানবেতর জীবন যাপন করছে  অধিকাংশ বাঙালি। ১৯৪৭ সালে দেশ ভাগের সময়ে বর্তমান পাকিস্তানের বাইরে থেকে যারা এসেছিলেন তাদের বলা হয় মুহাজির। এই মুহাজিররা পাকিস্তানের জনসংখ্যার প্রায় ৮ শতাংশ। এদের রাজস্থানী, কনকানি, মারাঠী, হায়দরাবাদী বংশোদ্ভূত মুহাজিরদের বেশির ভাগ অবস্থান সিন্ধ প্রদেশে। তবে অন্য জাতিদেরকে মুহাজির হিসেবে একটু সহমর্মীতার দৃষ্টিতে দেখলেও বাঙালিদেরকে দেখা হয় চরম অপমানের চোখে। গত কয়েক বছর ধরে দেন দরবার করে পাকিস্তান সরকারের মন ভুলানোর চেষ্টা করে কিছুটা সাফল্য আসবে মনে হচ্ছিল যখন, তখন পাকিস্তানি বিভিন্ন দল এদেরকে নাগরিকত্ব দেয়ার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভে নেমেছে। সব মিলিয়ে এদের সংখ্যা হয়েছে ২৮ লাখের মতো, যাদের একটি বড় অংশের বসবাস করাচিতে। এক হিসাবে করাচিতে পাকিস্তানপ্রেমী বাঙালি জনসংখ্যা শহরে মোট জনসংখ্যার ৭.৫ ভাগ শতাংশ। সংখ্যায় তা ১৫ থেকে ২০ লাখের মতো। পাকিস্তানপ্রেমী এই বাঙালিরা ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে করাচির ১০৫টি বসতিতে। ওরাঙ্গি টাউন, ইব্রাহিম হায়দারি কলোনি, বিলাল কলোনি, জিয়াউল হক কলোনি, মূসা কলোনি, মাচার কলোনি এবং ল্যারির বাঙালি পাড়ায় বাঙালি বসতি সবচেয়ে বেশি। পাকিস্তানি গণমাধ্যম দ্য ডনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, শুধু করাচিতেই তিন লক্ষাধিক বাঙালি বসবাস করে। তাদের বেশিরভাগ পোশাক শ্রমিক হিসেবে এবং বাসাবাড়িতে কাজ করে।

পাকিস্তানে এই বাঙালিরা মূলত এসেছিলেন কয়েকভাবে ও সময় সাপেক্ষে

কেউ এসেছিলেন অখণ্ড পাকিস্তান থাকাকালে, যারা পরবর্তীতে আর ফেরতই যাননি। এদের অনেকেই অবশ্য নাগরিকত্ব পেয়ে পাকিস্তানে প্রতিষ্ঠিতও হয়েছেন বেশ।  কেউ এসেছিলেন একাত্তরের যুদ্ধের ভয়াবহতা এবং যুদ্ধ পরবর্তী দেশে সম্ভাব্য অনিশ্চিত জীবনের ঝুঁকি থেকে বাঁচতে। কেউ এসেছিলেন মুক্তিযুদ্ধের অব্যবহিত পরে। এরা অধিকাংশই মুক্তিযুদ্ধের কট্টর বিরোধিতাকারী ছিলেন। আদম ব্যবসায়ীদের পাল্লায় পড়ে মধ্যপ্রাচ্যের নাম করে অনেকে পাচারের শিকার হয়ে আশির দশকে পাকিস্তান চলে আসেন, যাদের ঠাঁই হয়েছিলো করাচির বস্তি এলাকায়।

প্রথম প্রকরণটি ছাড়া অন্যরা যারা এসেছেন পাকিস্তানে, এরা প্রায় কেউই পাকিস্তানের মূলধারায় মিশে যেতে পারেননি এবং গুটিকয়েক ব্যতীত কেউই ন্যাশনাল অ্যালায়েন্স রেজিস্ট্রেশন অথরিটির সনদ নেননি বা নিতে পারেননি আভ্যন্তরীণ দুর্নীতি ও জটিলতার দরুন। এদেরই পরিচয় হয়েছে পাকিস্তানের ‘অবৈধ’ বা ‘আটকে পড়া’ বাঙালি হিসেবে। এদের অনেককে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হলেও যারা মুক্তিযুদ্ধ বা তার আগে থেকে আছেন; কিংবা অন্তত তিন-চার পুরুষ যাবত পাকিস্তানে থাকছেন, তারা ‘অবৈধ’ তকমা থাকা সত্ত্বেও মনেপ্রাণে পাকিস্তানকেই স্বদেশ মনে করেন  । ‘আটকে পড়া’ বা ‘অবৈধ’ তকমা নিয়েও তারা পাকিস্তানকেই লালন করেন বুকে। পাকিস্তানের বাঙালিরা প্রায় সবাই হতে চান পাকিস্তানের নাগরিক। বাংলাদেশে আটকে পড়া বিহারিদের ভেতর বাংলাদেশের নাগরিকত্ব গ্রহণ নিয়ে দ্বিধাবিভক্তি আছে ভালোরকম। সেই রকম দ্বিধাবিভক্তি আবার পাকিস্তানের এই ‘বাঙালি’দের নেই। নাগরিকত্ব কোনোরকম পেলেই তারা খুশি। এর উদাহরণ হিসেবে বলা যেতে পারে চলমান আদমশুমারির কথাই। সেখানে তথ্য সংগ্রহ ফর্মে মাতৃভাষা হিসেবে ‘বাংলা’ তালিকাভুক্ত নয়, তাই তথ্য সংগ্রাহকেরা বাঙালিদের কাছে এলে বাঙালিরা সকলেই ফর্মের ‘অন্যান্য’ অংশে টিক দেন জোটবদ্ধ সিদ্ধান্তে। সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ হলো আদমশুমারিতে তারা তাদের জাতীয়তা হিসেবে উল্লেখ করেন ‘পাকিস্তানি’। পাকিস্তানের জাতীয় দিবস সহ ক্রিকেটের বিজয় উদযাপনেও রাজপথে সাদা-সবুজ গালে মেখে উর্দুতে-বাংলায় জয়োল্লাস করেন এই বাঙালিরা।

নাগরিকত্বের বৈধতার দাবিতে প্রেস ক্লাবের সামনে পাকিস্তানি বাঙালিদের মিছিল;
নাগরিকত্বের বৈধতার দাবিতে প্রেস ক্লাবের সামনে পাকিস্তানি বাঙালিদের মিছিল;

করাচিতে বাঙালিদের নাগরিকত্ব দেবার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভে নেমেছে পাকিস্তানি বিভিন্ন দল। সিন্ধি রাজনৈতিক দলগুলো আবার শুরু থেকেই বিরোধিতা করে আসছে এ ধরনের উদ্যোগের। গত বছরের ডিসেম্বরেও করাচিতে প্রেস ক্লাব অভিমুখে বিক্ষোভ র‍্যালি বের করেছিলো ‘জয় সিন্ধ মাহাজ’ নামে একটি দল।

 

বাঙালিদের বৈধকরণের বিরুদ্ধে জেয় সিন্ধের করাচি প্রেস ক্লাব অভিমুখে প্রতিবাদ মিছিল

বাঙালিদের বৈধকরণের বিরুদ্ধে জেয় সিন্ধের করাচি প্রেস ক্লাব অভিমুখে প্রতিবাদ মিছিল। উৎস: geo টিভি 

দলটির প্রধান আবদুল খালিক জুনেজো বলেন, “দেশের ভেতরে ও বাইরে ব্যাপক হারে স্থানান্তর-অভিবাসনের দ্বারা সিন্ধি জনগণকে যেন নিজ প্রদেশেই সংখ্যালঘু করে দেওয়া হচ্ছে।” বিশেষত বাঙালিদের বৈধকরণের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান নিয়ে তিনি বলেন, “সরকারের উচিত এদের বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়া এবং তার আগে নিশ্চিত করা যে, তারা যেন ভোট দিতে বা রাষ্ট্রীয় অন্যান্য অধিকার ভোগ করতে না পারে।”

এদের পূর্বপুরুষরা ১৯৭১ সালে তখনকার পশ্চিম পাকিস্তানে মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিল। আর এখনও পাকিস্তানে বাংলাদেশ বিরোধী সভা-সমাবেশ করে যাচ্ছে। তবু মন গলছে না পাকিস্তানি সরকারের। আজ থেকে ১৫-২০ বছর আগে এদের পূর্বপুরুষরা মানে আমাদের সমাজের সামান্য কিছু মুরুব্বী বা তরুণদের মধ্যে প্রচলিত কিছু কথা ছিল, “পাকিস্তান আমলই তো ভালো ছিল, একাত্তরের যুদ্ধ না হলে আজ আমরা পাকিস্তানের নাগরিক হিসেবেই ভালো থাকতাম”। অনেকই রীতিমত দীর্ঘশ্বাস ফেলেন! “আইয়ুব খানের আমলই ভালো ছিল, যা উন্নয়ন হওয়ার তখনই হইছে”, “আইয়ুব খান খুব ভালো লোক ছিল” এমন প্রশংসার মানপত্র শুনাত। পাকিস্তান নামের একটা গণহত্যাকারী নির্লজ্জ জঙ্গীবাদের আঁতুড় ঘরের জন্য কষ্টে তাদের বুক ফেটে যায়।  মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে বাংলাদেশেও জামায়াত ইসলামী, নেজামে ইসলাম পার্টিসহ ধর্মভিত্তিক দলের পাশাপাশি চীনপন্থী কিছু বাম দল দাঁড়িয়েছিল বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরুদ্ধে। নিজ দেশের মানুষদের গণহত্যায় করেছে সহযোগিতা। পাকিস্তানপ্রেমী বাঙালিদের অধিকার আদায়ে গড়ে উঠেছে সংগঠন ‘পাকিস্তানি বাঙালি অ্যাকশন কমিটি’র। পাক মুসলিম অ্যালায়েন্স নামের একটি রাজনৈতিক দলের প্রধান খাজা সালমান খাইরুদ্দিন। তার পিতা খাজা খাইরুদ্দিন পাকিস্তান গঠনের সময় অন্যতম নেতা ছিলেন। ১৯৬০ সালে পূর্ব পাকিস্তানের রাজধানী ঢাকার মেয়র ছিলেন খাইরুদ্দিন। দলটি করাচির বাঙালি সম্প্রদায়ের মধ্যে সক্রিয়। সালমান খাইরুদ্দিন বলেন, ‘বাংলাদেশে স্বাধীনতার পর অনেক বাঙালি পাকিস্তান ছেড়ে বাংলাদেশে চলে যায়। আবার অনেকে পাকিস্তানেই থেকে যায়। তারা সে সময় বাংলাদেশের অর্থনৈতিক কারণে পাকিস্তান ছেড়ে যায়নি।’

“ভাবতে অবাক লাগে কিভাবে এই দেশটা স্বাধীন হলো? একটা দেশের কিছু মানুষ যেখানে আজও বংশ পরম্পরায় পাকিস্তান প্রেম লালন করে হৃদয়ে, আফসোস করে কেনো পাকিস্তান ভেঙ্গে গেল, সেখানে সেই দেশের স্বাধীন হওয়া কতটা কঠিন ছিল? কতটা অসম্ভব ছিল? সেই বেইমান বাঙালিরা যারা একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের কঠিন সময়ে গাদ্দারী করে পাকিস্তানীদের সাথে হাত মিলিয়ে, কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে গণহত্যা চালিয়েছিল, নাশকতা চালিয়েছে, যুদ্ধে হেরে যাওয়ার পর নিজের জন্মভূমিকে পায়ে-দলে পেয়ারা পাকিস্তানে চলে গিয়েছিল, তারা এখন কি জঘন্য নোংরা আর নির্লজ্জ ভাবে জীবনযাপন করছে? তাদের বেইমানীর মাশুল তারা আজ ৪৭ বছর ধরে বংশ পরম্পরায় কিভাবে দিয়ে যাচ্ছে?”

Check Also

Stephen Hawking স্টিফেন হকিং

না ফেরার দেশে চলে গেলেন স্টিফেন হকিং

বিশ্ব বিখ্যাত পদার্থবিজ্ঞানী, প্রফেসর স্টিফেন হকিং আর নেই। ৭৬ বছর বয়সে তিনি আজ বুধবার দিনের …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *