ডিসেম্বর 7, 2022

ট্রান্সমিটারসদৃশ যন্ত্র বসানো আরেকটি কচ্ছপ উদ্ধার

1 min read

বরগুনার পায়রা নদীতে পিঠে স্যাটেলাইট ট্রান্সমিটারসদৃশ যন্ত্র বসানো একটি বিরল প্রজাতির কচ্ছপ জেলের জালে ধরা পড়েছে। শনিবার বিকেলে বরগুনা সদর উপজেলার বালিয়াতলী ইউনিয়নের বাসুকি গ্রামসংলগ্ন পায়রা নদীতে মাসুম নামের এক জেলের জালে কচ্ছপটি ধরা পড়ে। খবর পেয়ে বরগুনা জেলা বন বিভাগ কচ্ছপটি উদ্ধার করেছে। কচ্ছপের পিঠে থাকা যন্ত্রের বিষয়ে নিশ্চিত হতে সেটিকে সুন্দরবন বন বিভাগে পাঠানো হয়েছে।

বরগুনা বন বিভাগের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, পায়রা নদীতে জেলের জালে ধরা পড়া কচ্ছপটি বিরল ‘বাটাগুর বাসকা’ প্রজাতির। উদ্ধার কচ্ছপটির ওজন প্রায় ১২ কেজি। ধারণা করা হচ্ছে, এটির বয়স ২৫ থেকে ৩০ বছর।

কচ্ছপটি যাঁর জালে ধরা পড়েছে, সেই জেলে মো. মাসুম প্রথম আলোকে বলেন, ‘শনিবার বিকেলে পায়রা নদীতে জাল ফেলে মাছ শিকার করছিলাম। জাল তুলতে গিয়ে পিঠে একটি যন্ত্র লাগানো কচ্ছপটি ধরা পড়ে। আমি কখনো এত বড় কচ্ছপ কখনো দেখিনি। কচ্ছপের পিঠে লাগানো যন্ত্র সম্পর্কেও কোনো ধারণা নেই। পরে স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য খোকন মিয়াকে খবর দেই।’ সাবেক ইউপি সদস্য খোকন মিয়া বলেন, এমন কচ্ছপ আগে দেখেননি তাঁরা। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে বন বিভাগের কর্মকর্তাদের খবর দেন তিনি। তাঁরা সন্ধ্যায় এসে কচ্ছপটি নিয়ে গেছেন।

বরগুনা বন বিভাগের বিট কর্মকর্তা মো. মোশাররফ হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, কচ্ছপটির পিঠে লাগানো যন্ত্রটি দেখতে স্যাটেলাইট ট্রান্সমিটারের মতো। তবে সে বিষয়ে অধিকতর যাচাইয়ের জন্য কচ্ছপটিকে উপকূলীয় বন বিভাগ খুলনার পূর্ব সুন্দরবনে পাঠানো হয়েছে।

এর আগে গত ২৭ ফেব্রুয়ারি খুলনার দিঘলিয়া উপজেলার গাজীরহাট এলাকায় মাছ ধরতে গিয়ে স্থানীয় এক জেলের জালে একই প্রজাতির একটি কচ্ছপ ধরা পড়ে। ওই কচ্ছপ ছিল প্রায় ১০ কেজি ওজনের। করমজল বন্য প্রাণী প্রজননকেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আজাদ কবির ২৭ ফেব্রুয়ারি প্রথম আলোকে বলেন, সারা পৃথিবীতে প্রায় ৩০০ প্রজাতির কচ্ছপ আছে। এর মধ্যে এ অঞ্চলে প্রায় ২৬টি প্রজাতির কচ্ছপ পাওয়া যেত। এর মধ্যে বাটাগুর বাসকা প্রজাতির কচ্ছপ আর দেখা যাচ্ছিল না। ফলে ২০০০ সাল থেকে গবেষকেরা ধারণা করেন, পৃথিবীতে আর বাটাগুর বাসকার কোনো অস্তিত্ব নেই। তা নিশ্চিতে ২০০৮ সালে গবেষকেরা প্রকৃতিতে বাটাগুর বাসকা আছে কি না, তা খুঁজতে শুরু করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে নোয়াখালী ও বরিশালের বিভিন্ন জলাশয়ে আটটি বাটাগুর বাসকা পাওয়া যায়, যার মধ্যে চারটি পুরুষ ও চারটি নারী। করমজল বন্য প্রাণী প্রজননকেন্দ্র থেকে জানা যায়, প্রজননের জন্য গাজীপুরের ভাওয়াল গড়ে নিয়ে যাওয়া হয় কচ্ছপগুলোকে। বন বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত লোকেরা নিবিড়ভাবে লালন-পালন ও প্রজননের চেষ্টা করান ওই কচ্ছপগুলোকে। সেখানে ভালো সাড়া না পাওয়ায় ২০১৪ সালে মূল আটটি বাটাগুর বাসকা, তাদের জন্ম দেওয়া ৯৪টি ছানাসহ করমজল প্রজননকেন্দ্রে নিয়ে আসা হয়। করমজলে বাটাগুর বাসকার গবেষণায় বন বিভাগের সঙ্গে আরও তিনটি সংস্থা যোগ দেয়। এগুলো হলো প্রকৃতি ও জীবন, ভিয়েনা চিড়িয়াখানার গবেষণা দল ভিয়েনা জু ও যুক্তরাষ্ট্রের কচ্ছপ সংরক্ষণবিষয়ক সংস্থা টার্টেল সারভাইভাল অ্যালায়েন্স।